Mini RAS in Bangladesh

RAS বা রাস ( Re-Circulating Aquaculture System)

Design by James Martin Adhikary

পৃথিবীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাবারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সমতল চাষাবাদের জায়গাও কমে আসছে। তাই এই চাহিদা পূরণের জন্য আমাদের কম জায়গায় বেশী খাদ্য উৎপাদন এর জন্যে আমাদের উদ্দ্যোগ গ্রহন করতে হবে।
এই সকল খাদ্য উৎপাদনের মধ্যে মৎস উৎপাদন একটি অন্যতম আবাদ এর ক্ষেত্র। মৎস চাষের অনেক উপায়ের মধ্যে RAS (রাস ) একটি আধুনিক মৎস্য চাষ পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হল অল্প জায়গায় অধিক মান সম্মত মাছ উৎপাদন।
এই পদ্ধতিতে পুকুরের পরিবর্তে একাধিক বিভিন্ন আকৃতির ট্যাংক ব্যাবহার করে মাছ চাষ করা হয়। এই পদ্ধতিতে একই পানি পুনরায় ব্যাবহারের জন্য বিভিন্ন রকম ফিল্টার ও যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করা হয়ে থাকে।
এই জলজ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাছ উৎপাদন বলা যায়। এই আধুনিক উৎপাদন প্রক্রিয়া বর্তমান সময়ের এই বিপুল আমিষের চাহিদা মেটাতে বিরাট ভুমিকা রাখতে পারে। বর্তমান সময়ের সকল মাছ চাষ পদ্ধিতির মধ্যে RAS (রাস) সবচাইতে দ্রুত বৃদ্ধি লাভের একটি পরিক্ষিত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে দেশী শিং, দেশী-বিদেশী মাগুর, পাবদা, টেংরা বা গুলশা, টেলাপিয়া, পাংগাস, চিংড়ি, ভেটকি ইত্যাদি নানা প্রজাতির মাছ চাষ করা যায়। এই পদ্ধতিতে বিশুদ্ধ পানিতে সাস্থ সম্মত মাছ চাষ করা হয়। RAS (রাস) মূলত ঘরের ভিতরে ট্যাংকের মধ্যে অধিক ঘনত্বে এবং একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাছ উৎপাদন প্রক্রিয়া। যেখানে মাছ চাষের জন্য উপযুক্ত জলাশয় বা পানি নেই, সেখানেও এই পদ্ধতি ব্যাবহার করা যায়। এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ খুবই লভজনক কিন্তু এর প্রধান সমস্যা হল অধিক বিনিয়োগ ।
এই পদ্ধতিতে সাধারণত নিম্নলিখিত মেশিনারী ব্যাবহার হয়ে থাকে। যেমন. ১) কালচার ট্যাংক, ২) ম্যাকনিক্যাল ফিল্টার, ৩) বায়োলজিক্যাল ফিল্টার, ৪) প্রটিন স্কিমার, ৫) ইউভি স্টেরিলাইজার, ৬) পানির পাম্প, ৭) অক্সিজেন জেনারেটর সহ আরো অনেক যন্ত্রপাতি ।
এই সকল মেশিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কয়েকটি ধাপে প্রজেক্ট তৈরীর করে দেবার কাজ করে থাকেন। যেমন, ১) মেশিন বিক্রয়, ২) খরিদ্দারের চাহিদা অনুযায়ী প্ল্যান্ট ডিজাইন করা, ৩) কন্সটাটকশন বা স্থাপনা কাজ, ৪) পরামর্শ সেবা ইত্যাদি। শুধু মাত্র মেশিন ক্রয় করে RAS স্থাপনার কাজ যে কারো পক্ষে অসম্ভব একটি কাজ। একটি প্রজেক্ট ডিজাইন করতে কি কি মেশিন দরকার এবং কোন মেশিনের কি ধরণের ক্যাপাসিটি লাগবে তা নির্নয় করার জন্য অনেকগুলো ক্যালকুলেশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সঠিক ক্যাকুলেশন ও ডিজাইনের উপর নির্ভর করে প্রজেক্টের সাফল্য এবং ব্যায়।

মেশিন দেশী বিদেশী হতে পারে, কিন্তু প্রজেক্ট এর ডিজাইন ও সঠিক পরামর্শ না পেলে সাধারণ চাষীদের জন্য এই প্রকল্প স্থাপনা এবং পরিচালনা সম্ভব নয়। একটি নতুন প্রকল্প শুরুর প্রথম একটি মাস খুবই ঝুঁকি পুর্ন একটি সময়। এই সময় ব্যাক্টেরিয়া তৈরীর জন্য ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। এই সময় অভিজ্ঞতা না থাকলে ১ সপ্তাহের মধ্যে মাছ মারা যাবার সম্ভবনা শতভাগ। তাই এই প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন লোকের মাধ্যমে প্রকল্প ডিজাইন করে কাজে হাত দিলে সফল ভাবে মাছ চাষ শুরু করা যাবে। মনে রাখতে হবে, যারা পুকুরে মাছ চাষে অভিজ্ঞ তারা এই পদ্ধতি মাছ চাষ করতে হলে এই পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ নিতে হবে, অন্যথায় অতিরিক্ত খাবার দেওয়া ও অব্যাবস্থাপনার জন্য মাছ মরে যেতে পারে। কেউ পোনা ব্যাবসায়ী বা পুকুরের চাষীদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এই পদ্ধতিতে চাষ করতে গেলে সমস্যায় পরবেন।
বর্তমানে জেমস্ মার্টিন অধিকারী বাংলাদেশে RAS এর মেশিনারী তৈরীর কাজ হাতে নিয়েছেন। তিনি ১৯৯৬ সন থেকে দীর্ঘদিন বাংলাদেশে বিভিন্ন মেশিন তৈরীর কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তার তৈরী রুটি মেশিন বাংলাদেশ আর্মি ও পুলিশ ব্যাবহার করে আসছে। এই মেশিন আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন হওয়ায় বিদেশ থেকে প্রচুর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি এবছরের শুরুর দিকে SRAC (Southern Regional Aquaculture Center) এর RAS বিষয়ক অনেক গবেষনা মূলক বই পড়ে এবং আমেরিকার ও টারকির বর্তমান সময়ের আধুনিক RAS মেশিনারীর উপর ইন্টারনেট থেকে পড়াশুনা করে এই কজে হাত দেন। বিগত দিনের তার বায়োলজিক্যাল ইটিপি প্ল্যান্ট, WTP প্ল্যান্ট এ হাতে কলমে কাজ করার অভিজ্ঞতা ও মেশিন ডিজাইন ও মেনুফেকচারিং এর অভিজ্ঞতা তাকে এই কাজে সাফল্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও জেমস মার্টিন অধিকারী ইন্ডষ্ট্রিয়াল ইলেক্ট্রিক সার্কিট ডিজাইন ও পি এল সি অটোমেশনে সমান ভাবে দক্ষ। যে কারনেই তিনি কোন টিম ওয়ার্ক ছাড়া একাই সকল ডিজাইন সঠিক ও সফল ভাবে করে থাকেন। RAS এর মেশিন ডিজাইন ও প্রজেক্ট ডিজাইনেও এর ব্যাতিক্রম হবে না।
আশা করা যাচ্ছে আগামী ২০১৮ এর জানুয়ারিতে প্রজেক্ট ডিজাইন ও মেশিন তৈরীর কাজ শুরু করা হবে। যেহেতু সকল প্রডাক্ট ফাইবার গ্লাস ও স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে তৈরী হবে, তাই এগুলো দীর্ঘস্থায়ী এবং কষ্ট এফিক্টিভ হবে।